নিজস্ব সংবাদদাতা: ১১বছর আগে যেখানে ছেলের হাফ ডজন গুলিবিদ্ধ দেহটা পড়েছিল ঠিক তার ৩০মিটার দুরে হয়ে গেল বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি। সিপিএমের ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটির উদ্যোগে লালগড়ে মাওবাদীদের হাতে নিহত ১০৬টি পরিবারের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়া। জেলা কমিটির সম্পাদক পুলিন বিহারী বাস্কে ও জেলা কমিটির কয়েক জন সদস্যের সাথে হাজির ছিলেন পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম।
অনুষ্ঠানটা হচ্ছিল লালগড়ের ধরমপুর পার্টি অফিসের সামনেই। ২০০৯ সালের ১১ই জুন এখানেই মাওবাদীরা গুলি করে খুন করে শালকু সরেনকে। আর তারপরের চারদিন শালকুর দেহের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি কাউকে, শালকুর মা ছিতামনি যতবার যেতে চেয়েছিলেন ততবারই তাঁকে বন্দুকের কুঁদো মেরে সরিয়ে দিয়েছিল মাওবাদী নেতা বিকাশ এবং জনসাধারণের কমিটির সেই সব সদস্যরা যাঁরা এখন ধরমপুরের তৃনমূল নেতা। ১৫ই জুন পুলিশের চেষ্টায় পচাগলা দেহ মিলেছিল শালকুর। সেই দেহ নিয়ে কোনও মতে সরে যাওয়া হয় ধরমপুর থেকে কিছুটা দুরে তার কয়েকঘন্টার মধ্যেই ধরমপুরের দখল নেয় মাওবাদীদের দল।
বর্তমানে NIA এর একটি দল ধরমপুরের আরেক সিপিএম নেতা প্রবীর মাহাত খুনে ছত্রধর মাহাতের সাথে আরও যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তাঁর মধ্যে রয়েছে ধরমপুরের এক বড় তৃনমূল নেতা। ওই নেতাও শালকু সরেন খুনে এবং দুই পুলিশ কর্মী সাবির মোল্লা ও কাঞ্চন গড়াই খুনে অভিযুক্ত। মদ্দা কথা জঙ্গল মহলের এখন বহু জায়গাতেই তৃণমূলের নেতৃত্বে সেই জনসাধারণ কমিটির আড়ালে মাওবাদীরাই।
সেই ধরমপুরেই বৃহস্পতিবার এই কথাগুলোই ফের আরেকবার বলছিলেন মহম্মদ সেলিম। সেলিম বলেন, ‘আজ জনসাধারণের কমিটি আর মাওবাদীরাই যখন তৃণমূলের নেতা হয়ে বসেছে তখন আর বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে, মাওবাদী আর তৃনমূল মিলেই হয়েছিল জনসাধারণের কমিটি নামে গরিব মানুষ খুনের মিলিশিয়া বাহিনী।’ ‘বাস্তবিকই ছত্রধর মাহাত এখন তৃণমূলের রাজ্য কমিটিতে আর ছাত্রধরের অনুচর শ্যামল মাহাত এখন তৃণমূলের লালগড় তথা বিনপুর ব্লকের সভাপতি। সবটাই জলের মত পরিষ্কার।’ বললেন এক সিপিএম নেতা।
সেই অনুষ্ঠানেই শালকুর মা ছিতামনি সরেনও এসেছিলেন। তাঁকে মঞ্চে ডেকে নিলেন সেলিম আর পুলিন বাস্কেরা। ৭৫ বছর বয়সের আদিবাসী জননী। বয়সের ভারে কোমর পড়ে গেছে কিন্তু মনুষ্যত্বের শিরদাঁড়ায় ঘুণ ধরেনি একটুও। তাঁকেই প্রথম বস্ত্র তুলে দিতে চেয়ে আমন্ত্রন জানালেন উদ্যোক্তারা। ঘোষণা হল তাঁর নাম। কিন্তু তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠলেননা। বললেন, “আগে সবার হাতে কাপড় তুলে দাও বাবারা, তারপর আমারটা। আমার শালকু কোনও দিন আগে কোনও কিছু নেয়নি, কোনও কিছু খায়নি। মিছিলে গিয়ে মনে নেই? সবার হাতে মুড়ির ঠোঙা তুলে দিয়ে নিজে খেত সে?” ক্ষীণ গলা কিন্ত দীপ্ত স্বর। আরও একবার হতবাক ধরমপুর। ছবি সৌজন্য: তপন কান্তি মাহাত
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…