সেই থেকে চলে আসছে হাট। সপ্তাহে ২দিন, বৃহস্পতি আর রবিবার। তবে রবিবারের হাটই জমজমাট। এক সময় গরুর হাট বসত এই হাটের মধ্যেই। আশে পাশের ৫০-৬০ কিলোমিটার জুড়ে চাষিরা আসতেন গরু কেনাবেচা করতে। প্রায় এক যুগ হল গরুর চলে গেছে ৬নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে ফলে হাটের গরিমা কিছুটা কমেছে কিন্তু ভিড় কমেনি। বিশেষ করে অঘ্রান-পৌষে ধান কাটার পর পরই জমে ওঠে হাট।
ফি সপ্তাহে শীতের সবজি আসে মানিকপাড়া, খালশিউলি, বড়কলা থেকে। মনোহরি থেকে কাটা কাপড়ের দোকান, হাঁস মুরগি ফলফুলের চারা বীজ কী পাওয়া যায়না এই হাটে? গুড়ের গেঁজা তোলা মিষ্টি, কুরকুটের ডিম, মাছ ধরার সরঞ্জাম, বাঁশ আর বেতের ধামা কুলো ঝুড়ি, চটের বস্তা, টর্চ আর গ্যাস লাইটার সারানো, তলার হারিয়ে যাওয়া চাবি বানিয়ে দেওয়া, আয়ুর্বেদিক জড়িবুটি, লাল হলুদ সবুজ রঙের জলের শরবত, নিম্বু পানি, বুড়ো আঙুলের চাপে খুলে দেওয়া সোডার বোতল, লুপ্তপ্রায় কাঠি আইসক্রিম, চুলের কাঁটা, ফিতে, আলতা আর ঝুটো মোতির গহনার অঢেল সম্ভার।
খড়গপুর শহরের অনেকেই অবশ্য এই হাটের কথা জানেনই না কিন্তু এই হাটের কথা জানে ডিমহুলি, চামরুসাই, খেলাড়, বনপাটনা, বেনাপুর, সাঁকোয়া, বাড়গোকুলপুর, তেমাথানি, সবং কিংবা পশ্চিমের ধারেন্দা, কলাইকুন্ডা, ক্ষেমশুলি, বালিভাষা। ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের মানুষ এখনো সাইকেল চালিয়ে কিংবা পায়ে হেঁটে হাটে আসে। এই মরশুমে পিঠেপুলি কিংবা মকর ছাড়াও হাটের অন্যতম আকর্ষণ হল মোরগলড়াই। ফি রোববার প্রায় আড়াইশো মোরগ আশে এখানকার ধুলাট বা লড়াইয়ের মাঠে। দুই মোরগের লড়াই কে ঘিরে জমজমাট বেটিং বা জুয়ার আসর। হাজার থেকে লক্ষ টাকা ওড়ে মোরগ লড়াইয়ের মাঠে।
হাটে ঢোকার মুখে দক্ষিনে আলাদা করে বসে হাঁড়িয়া আর মহুলের হাট। যাওয়া আসার পথে সুরা রসিকদের ভিড়, হৈ হট্টগোল। সব মিলিয়ে কয়েকটা গ্রাম পড়ে থাকে ট্যাংরার হাটে, শহর থেকে দুরে নয়, শহরের ভেতরে। তবে সব কিছুকেই ছাপিয়ে যায় সংক্রান্তির আগের রবিবার। নতুন শাড়ি কিংবা ফ্রক পরে গৃহবধূ কিংবা কিশোরী, তরুণীরা দল বেঁধে আসেন দূর দুরান্তের গ্রাম থেকে। দিনভর বাজার করার শেষে দর দাম করে টুসু লক্ষীকে মাথায় করে গান করতে করতে গ্রামে ফেরেন। তারপর দিনের হৈ চৈ সাঙ্গ করে রাতে একা পড়ে খড়গপুর শহরের মধ্যে থাকা এই অঞ্চলের একমাত্র হাট।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…