TRENDS

অঙ্কন প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়েই ক্যানসার আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর চতুর্থ বছরের লড়াই শুরু করল বর্ন-টু-হেল্প

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: চতুর্থ বছরের প্রস্তুতি শুরু করে দিল বর্ন-টু-হেল্প, প্রস্তুতি ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর। ২০১৮ সাল থেকে লড়াইটা শুরু হয়েছিল, পায়ে পায়ে যা পেরিয়ে এসেছে তিন বছর। এবছর ২০২১, অতিমারির মধ্যেও লড়াইটা শুরু হল বসে আঁকো প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। রবিবার খড়গপুর শহরের প্রভাস অন্ধ্র নব্য কলাকেন্দ্র হলে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল ১৭৫জন ছেলে মেয়ে। সামাজিক দুরত্বের নীতি মেনেই সতর্কতার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতা সঙ্গে ক্যানসার সচেতনতা ও ক্যানসার প্রতিরোধের সম্ভাব্য জীবন যাত্রা নিয়ে দুটি মহার্ঘ্য আলোচনা যেখানে অংশ নেন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ সৈকত শীট এবং সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা বরুণ পাল।অঙ্কন প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়েই ক্যানসার আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর চতুর্থ বছরের লড়াই শুরু করল বর্ন-টু-হেল্প৭ই ফেব্রুয়ারি হতে চলেছে মূল অনুষ্ঠান, ওয়াকথন। ওইদিন ক্যানসার আক্রান্তদের জন্য পথে হাঁটবে খড়গপুর। সকালে সেরসা স্টেডিয়াম থেকে প্রায় ৪কিলোমিটার হাঁটা। এই ‘ওয়াকথন’ আসলে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া যা তুলে দেওয়া হয় আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য। গত তিনবছরে এভাবেই সংগ্ৰহ হয়েছিল ১২লক্ষ ২৬হাজার টাকা যা এখনও অবধি ৪২ জন আক্রান্তের চিকিৎসার জন্য তুলে দেওয়া হয়েছে।

এবছর এখনও অবধি ১৩ জন আক্রান্ত আবেদন করেছেন, সংস্থার লক্ষ্য অন্ততঃ ৪লক্ষ টাকা সংগ্ৰহ করা। যা ওই দিনই তুলে দেওয়া হবে আক্রান্তদের হাতে। পাশাপাশি অর্থের প্রয়োজন নেই কিন্তু পরিষেবার প্রয়োজন রয়েছে এমন আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানো, সব মিলিয়ে ৭০জন আক্রান্তের সুরাহা হওয়া গেছে গত ৩বছরে।

ব্যাঙ্গালুরু, জামসেদপুর, কলকাতা আর খড়গপুর আপাতত এই চারটি শহরে কাজ করছে বর্ন-টু-হেল্প। শুধুই ক্যানসার আক্রান্ত নয় পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড ও ছত্তিশগড়ের ৭টি গ্রামে কাজ করছে এই সংস্থা। গ্রামগুলিতে চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সূচক বৃদ্ধি করার কাজ। ঝাড়গ্রামের ভেলাইজুড়ি এবং খড়গপুর রেলস্টেশনের ২নম্বর প্ল্যাটফর্মে সপ্তাহান্তে চিকিৎসা পরিষেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান। এই সবই চলে এই অর্থ সংগ্রহের মধ্যে দিয়েই। আগামী ২০শে জানুয়ারির মধ্যে ক্যানসার আক্রান্তরা আবেদন জানাতে পারেন সংস্থার কাছে।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা বরুণ পাল জানিয়েছেন, ‘ সাহায্যের প্রয়োজন আছে এমন কাউকেই ফেরাইনা আমরা। কয়েকটি স্তরে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার করার পর তাঁর আবেদন বিবেচনা করি আমরা। যদি কারও অর্থের প্রয়োজন হয় অর্থ কিংবা যদি কারও অর্থের প্রয়োজন নেই কিন্তু পরিষেবার প্রয়োজন আছে, কাউকে চিকিৎসার জন্য গাইড করা দরকার তাকে গাইড করা ইত্যাদি করে থাকি আমরা। এরজন্য আমাদের ৫সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন।”

৭ই ফেব্রুয়ারির আগে ৩১শে জানুয়ারি খড়গপুর শহরে একটি সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে সংস্থার তরফে। কয়েকশ মানুষ অংশ নেবেন ক্যানসার সচেতনতা বিষয়ক এই র‍্যালিতে। তারপর চুড়ান্ত অনুষ্ঠান ৭তারিখ। সেরসা স্টেডিয়াম থেকে ওয়াকথন। ১০০টাকা দিয়ে যে কেউ এই ওয়াকথনে নাম রেজিস্ট্রি করতে পারেন। সংস্থার আহ্বান সবাই আসুন, পথ হাঁটুন ক্যানসার রোগীদের জন্য। ছবি-বিভূ কানুনগো

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join