নিজস্ব সংবাদদাতা: রবিবার কিছুটা স্বস্তিতে ছিল খড়গপুর শহর, ২৪ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছিলেন মাত্র ২জন। মাত্র এই কারনে যে গত এক সপ্তাহে করোনার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে চারের নিচে রান ওঠেনি। রবিবার সেই তুলনায় ২ জন আক্রান্ত তাই কমই মনে হয়েছিল। মনে করা হচ্ছিল আংশিক লকডাউন ফল দিতে শুরু করেছে। কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হলনা ২৪ ঘন্টাও, সোমবার এক লাফে ফের নতুন করে খড়গপুরে মোট ৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ জনই খড়গপুর শহরের। শহরের আক্রান্ত ৮ জনের মধ্যে ৭ জনই মহিলা যার মধ্যে ২জন শিশুকন্যা রয়েছে যাদের বয়স ৬ ও ৯ বছর।
এদিনের আক্রান্তদের মধ্যে ৫জনই রেল এলাকার বাসিন্দা আর সব্বাই ডিআরএম অফিসে কর্মরত নিকট জনের স্পর্শেই আক্রান্ত হয়েছেন। যেমন খড়গপুর পৌরসভার ৩৪নম্বর ওয়ার্ডের হিজলি কো-অপারেটিভ এলাকার বাসিন্দা যাঁরা সম্পর্কে মা (৩৫) ও মেয়ে (৯ )আক্রান্ত হয়েছেন স্বামী সূত্রে বলেই মনে করা হচ্ছে। হিজলি গ্রামীন স্বাস্থ্য কেন্দ্র লাগোয়া এই পরিবারটির গৃহকর্তা খড়গপুর ডিআরএম অফিসে কর্মরত।
ঠিক একই ভাবে রেল আবাসনে একটি পরিবারের ৪৭ বছর মা, ২৫বছর বয়সী মেয়ে এবং ১৮বছরের ছেলে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই পরিবারের গৃহকর্তাও ডিআরএম অফিসে কর্মরত। কর্তা আগেই আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। রেলের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকার এই পরিবারের তিন সদস্যেরই কোনোও উপসর্গ ছিলনা বলেই জানা গিয়েছে।
রেল এলাকার বাইরে শহরের যে তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন তার মধ্যে একজন ২৮ বছরের যুবতী রয়েছেন। ছোট ট্যংরা এলাকার বাসিন্দা এই যুবতী মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের নার্স। জানা গেছে হাসপাতালে পরিষেবা দেওয়ার সময় তিনি একজন মহিলার চিকিৎসা করেন যিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে পরবর্তী কালে জানা যায়। এরপরই এই নার্স করোনা পরীক্ষা করেন। কোনো উপসর্গ না থাকা স্বত্ত্বেও তাঁর করোনা পজিটিভ ফল এসেছে।
তবে করোনা কালের সব চেয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন খড়গপুর শহরের ইন্দা এলাকার বিদ্যাসাগরপুরের বাসিন্দা এক ৫৫ বছরের মহিলা এবং তাঁর ৬ বছরের নাতনির। এই শিশুকন্যার মা ডেবরা হাসপাতালের ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান। ব্লাড ব্যাঙ্কে কর্মরত এই মহিলা ও তাঁর স্বামী একাধিকবার নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন অথচ প্রতিবারই নেগেটিভ এসেছে দুজনেরই। মহিলা যেহেতু করোনা স্পর্শকাতর বিভাগে কাজ করেন তাই তিনি আর তাঁর স্বামী কয়েকবার নমুনা পরীক্ষা করান। প্রতিবারই তাঁদের নেগেটিভ আসা স্বত্ত্বেও কি করে মহিলার কন্যা ও শাশুড়ি পজিটিভ হয়ে গেল সেটাই ভাবার।
খড়গপুর শহরে যে ৭টি জায়গায় সোমবার নতুন আক্রান্তের সন্ধান মিলল তাঁর মধ্যে হিজলি কো-অপারেটিভ সোসাইটির অংশটি নতুন। এর আগে এই এলাকায় এক প্রৌঢ়ার আক্রান্ত হওয়ার খবর মিললেও তিনি কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে আক্রান্ত হন। আক্রান্ত অবস্থাতে তিনি খড়গপুরে ছিলেননা। কিন্তু বর্তমান আক্রান্ত মা ও মেয়ে দুজনেই গৃহকর্তার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাঁর ডিআরএম অফিসে কাজ করার সূত্রেই এই সংক্রমন।
এই নতুন আটজন আক্রান্ত হওয়ার সুবাদে খড়গপুর শহরে মোট আক্রান্ত হলেন ১৪৭ জন, দেড়শ থেকে মাত্র ৩ আক্রান্ত দূরে। করোনা মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন শতাধিক মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ৭জনের। মঙ্গলবার অবধি খড়গপুর শহর থেকে আংশিক লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার ৫আগষ্ট রাজ্য ব্যাপি লকডাউন। ওই দিনই টাস্ক ফোর্স বসে ঠিক করবে, পুনরায় আংশিক লকডাউন চালু করা হবে কিনা শহরে। নিশ্চিত ভাবেই সোমবারের এই নজির বিহীন সংক্রমনের হিসাব মাথায় থাকবে টাস্ক ফোর্সের। এদিন শহরের বাইরে চাঙ্গুয়াল এলাকায় এক ৬৫ বছরের বৃদ্ধের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…