নিজস্ব সংবাদদাতা: আজ আমার বাড়ি তো কাল আপনার বাড়ি ঘিরে কন্টেনমেন্ট জোন। আজ এ পাড়া তো কাল ও পাড়ার গলির মুখে লাল কালিতে লেখা থাকবে কন্টেনমেন্ট জোন। হ্যাঁ, এটাই ভবিতব্য। এবছরের শেষে কিংবা আগামী বছরের গোড়ায় ভারতের ৭০% মানুষই করোনায় আক্রান্ত হবেন। তাই লাল ফিতের ওপারে আতঙ্ক নয়, ওপারে রয়েছে আমাদের সেই সব স্বজনেরা যাঁরা এ পারে আমাদের পাড়ায় যখন কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষনা হবে তখন এগিয়ে আসবেন। আজ আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পালা। এই অভিনব ভাবনায় এবার নতুন লড়াইয়ে নামলেন খড়গপুর শহরের সমাজসেবী সংগঠন ভগৎ সিং জন্ম শত বার্ষিকী কমিটি। লড়াই, কন্টেনমেন্ট জোনের ওপারে ‘বাড়িয়ে দাও তোমার হাত।’
সদ্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন খড়গপুর শহরের ৩৩নম্বর ওয়ার্ডের দুই যুবক। সম্পর্কে মামা ভাগ্না দুই পরিবারের মধ্যে ব্যবধানে ৬টি পরিবার, মোট ৮ টি বাড়ি চলে এসেছে কন্টেনমেন্ট জোনের আওতায়। স্বাস্থ্য বিধি মেনেই পুলিশ প্রশাসনের পরামর্শ বা নির্দেশ মেনে বাড়ির বাইরে বেরুনো বারন।
তালবাগিচায় অবস্থিত কমিটির অফিস থেকেই মনিটরিং হচ্ছে ওই কন্টেনমেন্ট জোনের ভেতরে থাকা পরিবার গুলির জরুরি বিষয় গুলির ওপর। ৮ টি পরিবারের ক’জন বয়স্ক আর ক’জন শিশু হিসাব রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে পৌঁছে দেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা শিশু খাদ্যও। আপাতত মঙ্গলবার জোনের ওপারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রতিটি পরিবারের জন্য ১৫ দিনের খাদ্যশস্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। কমিটির সম্পাদক প্রদ্যোৎ দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, ”একটা অন্য ধরনের লড়াইয়ের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছি আমরা। এ লড়াই শুধু মানুষকে বাঁচানোর নয়, মানবতাকে বাঁচানোরও বটে। শুধু আমরাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি তাই নয়, পাশাপাশি কন্টেনমেন্ট জোনের বাইরে থাকা প্রতিবেশী পরিবারগুলি কেও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর এবং সত্যি সত্যি প্রতিবেশীরাও তাই করছেন। সংবাদমাধ্যমে আমরা শুনতে পাই কোথাও আক্রান্ত পরিবার কিংবা কোভিড যোদ্ধাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার কথা কিন্তু এখানে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসেছেন সহমর্মিতা নিয়ে।”
সংগঠনের অন্যতম সদস্য প্রদীপ ধর জানালেন, ‘ প্রতিটি পরিবারের ফোন নম্বর নেওয়া হয়েছে এবং পরিবার গুলিকে আমাদের পক্ষ থেকে একাধিক ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে সাতদিন চব্বিশ ঘন্টার জন্য। যে কোনো প্রয়োজনে যখন খুশি তাঁরা ফোন করবেন। আমরা এই পদ্ধতি চালু করলাম, প্রশাসন যদি অনুমতি দেন তবে খড়গপুর শহরের অন্য কন্টেনমেন্ট জোনগুলি নিয়েও ভাবব আমরা। যেভাবে যদি আরও কয়েকটি সংগঠন এগিয়ে আসে তবে পুরো খড়গপুরেই একটা অন্য লড়াই শুরু করা যায়।”
সংগঠনের তরুন সদস্য সংগ্রামজিৎ ব্যানার্জী বললেন, ” করোনা আক্রান্ত শুরু হওয়ার প্রথম দিকে একটা অন্য লড়াই ছিল। তখন লকডাউনে দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছি আমরা। তালবাগিচা, দীনেশনগর, রবীন্দ্রপল্লীসহ, গ্রামীণ এলাকার, আঁধারকুলি উত্তর দক্ষিন, শ্যামেশ্বরপুর, কুচলাচাটি, শোলাডহর এবং হরিয়াতারা অঞ্চলের গ্যাড়াশুলি, কুমারডুবি, ধাদকি গ্রামের ২৬০০পরিবারে ১৪লক্ষ ৬০ হাজার টাকার খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। সেই প্রক্রিয়া এখনও চলছে। এছাড়াও করোনা পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা সামগ্রী বণ্টন করা হয়েছে। এবার নতুন লড়াই, কন্টেনমেন্টের ওপারে বাড়িয়ে দাও তোমার হাত।”
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…