নিজস্ব সংবাদদাতা: ভিন রাজ্য থেকে কাজ করতে এসে লকডাউনে আটকে গেছেন বিহারের ভাগলপুর, মাধেপুরার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আয়ুব আলি, সালাউদ্দিন, হাকিমের মত ২০জন শ্রমিক। খড়গপুর রেল কারখানার বাতিল হয়ে যাওয়া যে কামরাগুলি ঠিকাদার অকশনে কিনে নেয় সেগুলো কেটেকুটে পূণর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলাই এদের কাজ কিন্তু লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় সে কাজ বন্ধ। ফলে চূড়ান্ত বিপদের মুখে তাঁরা এমনই খবর প্রকাশিত হয়েছিল মঙ্গলবার দ্য খড়গপুর পোষ্ট নিউজ পোর্টালে।
দ্য খড়গপুর পোষ্টকে তাঁরা জানিয়েছিলেন , গাঁটের পয়সা শেষ হয়ে গেছে কবেই, ঠিকাদারও আর এমুখো হয়নি। সাড়ে তিনশ কিলোমিটার দুরে আধ পেটা খেয়ে দিন গুজরান করছে বউ বাচ্চা বুড়ো বাবা মা। পয়সা পাঠাতে পারা যাচ্ছেনা তাঁদেরও। অভিশপ্ত এক করোনা আর তার জেরে লকডাউন যেন অভিশাপ হয়ে নেমে এসেছে এই ২০জন পরিযায়ী শ্রমিকের জীবনে। প্রতিবেশি কিছু মানুষ চাল আর আলু দেয় কখনও সখনও। তাই জলে ভেজানো ভাতই ভরসা এঁদের।
আর এরই মধ্যে চলে এসেছে ইদ। ফলে পান্তাভাত দিয়েই রোজা পালন করতে হচ্ছে তাঁদের। দ্য খড়গপুর পোষ্টয়ে সেই খবর প্রকাশ হতেই উদ্যোগ নিল খড়গপুর মহকুমা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার তাঁদের জন্য চাল ডাল আলু সবজি তেল মশলা সাবান শুকনো ফল ইত্যাদি নিয়ে পৌঁছে গেলেন খড়গপুর মহকুমা শাসক বৈভব চৌধুরী, খড়গপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজি সামসুদ্দিন আহমেদ, খড়গপুর টাউন থানার ইনসপেক্টর ইনচার্জ রাজা মুখার্জী প্রমূখরা।
খড়গপুর শহরের ইন্দা সংলগ্ন ট্রাফিক এলাকার যে গোডাউনের পরিত্যক্ত রেল কামরায় শ্রমিকরা বাস করেন সেখানেই খাদ্য সামগ্রী নিয়ে পৌঁছে যান আধিকারিকরা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ”প্রয়োজনে আপনাদের আরও খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হবে। যদি কারও ওষুধের প্রয়োজন হয় সেই প্রেসক্রিপশন আমাদের দিলে আমরা ওষুধ পৌঁছে দেব। আর যদি ক্যাশ প্রয়োজন হয় তাহলেও বলতে পারেন।”
আশার আলো জুগিয়েছেন মহকুমা শাসক। তিনি বলেন, ‘আপনরা ঘরে ফিরতে চাইলে আপনাদের নাম ও এলাকার ঠিকানা দেবেন। আমরা বিহার সরকারের সঙ্গে কথা বলব।’ উল্লেখ্য গতকালই পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজ নিজ রাজ্যে ফেরার সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্র।
খড়গপুর মহকুমা প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি ভিনরাজ্যের শ্রমিকের দল। ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁরা। আয়ুব, সালাউদ্দিন, হাকিমরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন দ্য খড়গপুর পোষ্টকেও। মহকুমা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ দ্য খড়গপুর পোষ্টের পক্ষ থেকেও ।উল্লেখ্য এর আগে গ্রামীন খড়গপুরের গোকুলপুরের দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত এক মহিলা তাঁর আট বছর ধরে খেয়ে আসা ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন পাচ্ছিলেননা। লকডাউনের বাজার থেকে হঠাৎই উধাও হয়ে যাওয়া সেই ওষুধ না পাওয়ায় বিপদে পড়েছিলেন ২৭বছর বয়সী হীরা খামরুই। দ্য খড়গপুর পোষ্ট সেই খবর করার ২৪ঘন্টার মধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাসক রশ্মি কমলের উদ্যোগে হীরার বাড়িতে একমাসের ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…