নিজস্ব সংবাদদাতা: হাড় হিম আতঙ্ক যেন গ্রাস করেছে রেল শহরকে। খোদ আর.পি.এফ পোষ্ট গুলিই ফাঁকা, এমনকি ডি.আর.এম বাংলোর সামনেও দেখা মিলছেনা তাঁর নিরপত্তা রক্ষীদের। বাজারে জোর গুজব রটে গেছে যে, ডি.আর.এম নিজেই ভয়ে তাঁর নিরপত্তারক্ষী ছেড়ে দিয়েছেন। যদিও এ কথা অস্বীকার করছে রেল। রেলের বক্তব্য ১২০জন আরপিএফ জওয়ান কোয়ারেন্টাইনে চলে যাওয়ায় কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। তাই একটু সমস্যা হচ্ছে।
কিন্তু সমস্যা একটু নয়, অনেকটাই কারন, শুধুই ডিআরএম বাংলো নয়, পাশাপাশি খড়গপুর ও নিমপুরা পোষ্ট কোনও জায়গাতেই দেখা মেলেনি রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স বা আর.পি.এফের। না, এক জায়গায় দেখা মিলেছে কিন্তু সেখানে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন তাঁরা আর সেটা হল খড়গপুর শহরের জগন্নাথমন্দির সংলগ্ন রেলের টিবি হাসপাতাল। যেখানে কয়েকজন জওয়ান চরম আতঙ্কের মধ্যেই ডিউটি করছেন।
উল্লেখ্য এই টিবি হাসপাতালেই রয়েছেন সেই ১২০ জনের সিংহভাগ জওয়ান যাঁদের এখানে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। খড়গপুর ও সংলগ্ন রেল বিভাজনের যে ৯ জন জওয়ানের কোভিড পজিটিভ ধরা পড়েছে তাঁদেরই সহকর্মীদের রাখা হয়েছে এখানে আর এখানেই যে কয়েকজন জওয়ান ডিউটি করছেন আতঙ্কে তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ যে, কোনও মাস্ক দেওয়া হয়নি তাঁদের, দেওয়া হয়নি অন্যান্য উপকরন। একই কথা জানা গেছে খড়গপুর পুলিশের তরফে। বলা হচ্ছে, ওই জওয়ানদের মাস্ক ইত্যাদি রেলই দেবে বলেছিল তাই স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা করেনি।
এদিকে রেল শহরের এই রাতারাতি আতঙ্কগ্রস্থ হওয়ার জন্য রেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে সারা খড়গপুর থেকে শুরু করে খড়গপুরের পৌরপ্রধান ও বিধায়ক প্রদীপ সরকার। সরকার বলেন, ”চূড়ান্ত দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে রেল। দিল্লি থেকে ওই জওয়ানরা ফেরার বিষয়টি পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়েছিল স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। আর সে কারনেই আজ রেলের থেকেই সংক্রমনের পথে সারা খড়গপুর।”
খড়গপুরের এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ”ওই জওয়ানদের ফিরে আসা শুধুই গোপন করেনি রেল আমাদের এটাও সন্দেহ যে, ওই জওয়ানদের আদৌ সঠিক সময়ে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছিল কিনা। আমার তো মনে হচ্ছে, ২০তারিখ বালেশ্বরের জওয়ানের কোভিড ধরা পড়ার পরেই রেলের টনক নড়েছে।”
রেলের বিরুদ্ধে শহরের বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ফেসবুকেও। তাঁদের মতে রেলের জন্যই আজ বিপদের মুখে গোটা শহর। আর রেল শহরকে ঘিরে যে কলোনী তাঁর বাসিন্দারা রাতারাতি ঘিরে ফেলেছেন নিজেদের গলি আর রাস্তার মুখ। কাউকেও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছেনা পাড়ার ভেতর। তাঁরা বলছেন, লকডাউনের বাজারেও ডিউটি করেছেন আরপিএফরা। সারা রেল শহর ঘুরে বেড়িয়েছেন তাঁরা। তাঁদের থেকে কে কোথায় সংক্রমিত হয়েছে কে জানে ? তাই আপাতত পাড়ায় ঢুকতে দিচ্ছিনা কাউকেই।
অসহায় আরপিএফ কর্মীর পরিবারের সদস্যরাও। রেলের আবাসনে কিংবা স্থানীয় এলাকায় নিজের কিংবা ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন তাঁরা। প্রতিবেশিরা তাঁদের ভাল চোখে দেখছেন না। কালও যাঁরা জানলা কিংবা ব্যালকনি থেকে মুখ বাড়িয়ে হেসে হেসে কথা বলেছেন, তাঁরাই আজ কেমন সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছেন! রেল এলাকা দাপিয়ে বেড়ানো জওয়ানের দল আজ যেন রাতারাতি ভিলেন!
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…