নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রকাশ্য দিবালোকে কয়েকশ মানুষের সামনেই এক যুবককে গুলি করল এক NVF কর্মী। ঘটনার ভয়াবহতায় হতবাক ঝাড়গ্রামবাসী। একজন পুলিশ স্থানীয় কর্মীর হাতেই যুবককের খুন হওয়ার ঘটনার প্রাথমিক অভিঘাত কাটিয়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী অভিযুক্ত খুনি NVF কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুরের পর আগুন লাগিয়ে দেয় বলে জানা গেছে। গোটা ঘটনায় থমথম করছে অরণ্য শহর। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ শহরের বাছুরডোবা এলাকায় ক্রিকেটের একটি টুর্নামেন্ট চলাকালিনীই ঘটনাটি ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন খেলা চলাকালীন দর্শকাসনে থাকা ওই যুবককে গুলি করার পাশাপাশি কুপিয়ে তাঁরমৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার পরেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা ঝড়গ্রামের বাছুরডোবা এলাকা। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেয়। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে শুরু হয় পথ অবরোধ। পরিস্থিতি মোকাবিকলায় নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
জানা গেছে দিন কয়েক আগে বাছুরডোবা এলাকায় এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার অমিত কুমার ভরত রাঠোর এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেছিলেন। আনলক পরবর্তী কালে এই ধরনের টুর্নামেন্ট তাই ভিড় হচ্ছিল। যে কারনে শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। এখানেই খেলা দেখছিলেন শহর থেকে ৫কিলোমিটার দূরের রাধানগরের বাসিন্দা শেখ তদবীর আলি। অভিযোগ, খেলা চলাকালীন এদিন হঠাৎই বাছুরডোবা এলাকার বাসিন্দা এনভিএফ কর্মী বিশ্বজিৎ প্রধান শেখ তদবীরের উদ্দেশ্য কটু কথা বলে এবং তাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে। সামান্য দু’চারটি বাক্য বিনিময়ের পরই তাঁকে লক্ষ্য করে দুটো গুলি ছোঁড়ে। অপরটি মাথার পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। অভিযোগ, এরপর ভোজালি দিয়ে এলোপাথাড়ি তদবীরকে কোপায় বিশ্বজিৎ। তড়িঘড়ি স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে এরপর কলকাতায় স্থানান্তরিত করার সময় পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তদবীর।
তদবীরের ভাই সাবির, যিনি নিজেও দাদার পাশেই ছিলেন বলেন, ‘আমরা দর্শকদের থেকে একটু দুরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎই ওই বিশ্বজিৎ যাকে আমরা ন্যাড়া বলেই চিনি। রাস্তার মাঝখানে নিজের চারচাকা গাড়ি দাঁড় করিয়ে নেমে আসে দাদার দিকে। এসেই বলতে শুরু করে, ‘কি রে আমাকে মারবি? নে, খুন কর আমাকে। এই আমি তোর সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এরপরই সে দু’হাতে দুটি পিস্তল নিয়ে দাদার দিকে তাক করে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটা গুলির শব্দ হয়। দাদার কপালে গুলি লাগে। আমরা তখন প্রাণ ভয়ে পালাচ্ছি। কারা দাদাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল জানিনা।”
ঘটনার প্রাথমিক অভিঘাত কাটিয়ে এরপর জড়ো হয় কয়েকশ ক্রুদ্ধ জনতা। সেই জনতা এবার দখল নেয় বাছুরডোবা এলাকা। অভিযুক্ত বিশ্বজিতের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় স্থানীয়রা। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও দমকল। পুলিশ পৌঁছতেই অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানান এলাকার বাসিন্দারা। গ্রেপ্তারের দাবিতে বাছুরডোবা শালতলা সংলগ্ন এলাকার সেবায়তন ভায়া ধেড়ুয়া-মেদিনীপুর রাস্তায় চলে অবরোধ। দীর্ঘক্ষণ পর কিছুটা হলেও আয়ত্তে আসে পরিস্থিত। এলাকায় এখনও মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে পুরনো শত্রুতা ছিল দুজনের মধ্যে। মৃতের ভাই সাবির জানিয়েছে, ‘এর আগেও একবার ন্যাড়া আমাদের ওপর চড়াও হয়েছিল সেবার কোনোমতে পালিয়ে বাঁচে দাদা। কিন্তু কী কারণে এই শত্রুতা তা খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিশ। সাবিরের দাবি যদি সত্যি হয় তবে বিশ্বজিতের কাছে দুটি পিস্তল এল কোথা থেকে? সে কী সার্ভিস রিভলবার ব্যবহার করেছিল? যদি তাই হয় তবে অন্য রিভলবার এলো কী করে? সাবিরের দাবি বিশ্বজিতের আরেক ভাইও পুলিশে চাকরি করে। তাহলে কী তারও রিভলবার ব্যবহার করেছে বিশ্বজিৎ। অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ এবং খুন হয়ে যাওয়া তদবীর কী কোনো বেআইনি উপার্জনকে ঘিরে পারস্পরিক শত্রু হয়ে পড়েছিল? এসবেরই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…