TRENDS

২১-এর বিধানসভা; কাশ্মীর থেকে বঙ্গে পা রাখল প্রথম কেন্দ্রীয় বাহিনীর দল

Chandramani Saha

অশ্লেষা চৌধুরী: ভোটের দামামা বাজার আগেই বঙ্গে পা কেন্দ্রীয় বাহিনীর। শনিবার সকালেই কাশ্মীর থেকে বিশেষ ট্রেনে দুর্গাপুরে পৌঁছাল ১২ কোম্পানি সিআরপিএফ। এদের মধ্যে ২ কোম্পানি নামল দুর্গাপুর স্টেশনে। সেখান থেকে ১ কোম্পানি বীরভূম, ১ কোম্পানি বাঁকুড়ায় যাবে। বর্ধমানে নামবে ১ কোম্পানি সিআরপিএফ, ডানকুনিতে নামবে ৫ কোম্পানি এবং কলকাতা স্টেশনে ৪ কোম্পানি সিআরপিএফ নামবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, কলকাতায় যে তিন কোম্পানি বাহিনী আসবে তাদের বিধাননগর, বারুইপুর, ডায়মন্ডহারবার, হুগলি, ব্যারাকপুর, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা হবে। মূলত এরিয়া ডমিনেশন ও রুটমার্চ করার জন্য এই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজ্যে চলে আসবে মোট ১২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এর মধ্যে থাকবে আইটিবিপি, সিআরপিএফ, বিএসএফ, এসএসবি ও সিআইএসএফ-এর জওয়ানরা। শুক্রবার সকালেই বিএসএফ-এর শীর্ষকর্তার সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন অমিত শাহ। এর আগে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে বিএসএফ-এর একাংশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিল তৃণমূল। এবার ভোট ঘোষণার আগেই, রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসা নিয়ে শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপি তরজা। উভয়পক্ষই একে অপরের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে।

দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘আসুক না কত বাহিনী আসবে। ২০১৬ তেও এসেছিল। কিন্তু ওরা এসে যদি কোনও পক্ষ নেয় তাহলে আমরা ছেড়ে দেব না। এর জন্য আমাদের কর্মীরা প্রস্তুত আছে।‘তৃণমূল বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলও কটাক্ষ করে বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এলেও আরও বেশি করে খেলা হবে। প্রসঙ্গত, নির্বাচনের আগেই রাজ্যে ১০০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক । চলতি বছর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে কলকাতা থেকে ফিরে গিয়ে দিল্লিতে কমিশনের ফুল বেঞ্চ একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠক করে।যে বৈঠকে উপস্থিত ছিল এ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকও। সেই বৈঠকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তার আগেই রাজ্য সফরে এসেছিল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ।

রাজ্য পুলিশ–প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা ও অন্যরা। বৈঠকে বারবার উঠে এসেছে বাংলার রাজনৈতিক হিংসা, খুনোখুনির ঘটনার প্রসঙ্গ। তাই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যেই রাজ্যে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করতে চাইছিল কমিশন। তবে বিরোধীদের দাবী মেনে ভোটের তিন মাস আগে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠাতে নারাজ কমিশন। তাদের তরফে পরিষ্কার জানানো হয়, এটা সম্ভব নয়৷ তবে সূত্রের খবর, নির্বাচনের অনেক আগেই এবার রাজ্যে এসে পৌঁছতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ সেই মোতাবেক শনিবার প্রথম ধাপে বাংলায় এল কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর ধাপে ধাপে বাকি কোম্পানিও এসে হাজির হবে।

রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে প্রথম থেকেই সরব হয়েছে সকল রাজনৈতিক দলগুলি। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার ওপর জোর দিয়েছে বাম-কংগ্রেস জোটও। আর ভোটের আগে যেভাবে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, তাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারী বিশেষ ভূমিকা রাখবে, তা নিশ্চিত। তবে তাদের ভূমিকা কতটা ফলপ্রসূ হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join