ওয়েব ডেস্ক : ২০১৬ সালে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে প্রেমিকা আকাঙ্খা শর্মা খুনের ঘটনায় মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা উদয়ন দাসকে মঙ্গলবার দোষী সাব্যস্ত করে বাঁকুড়া আদালত। বুধবার, তার সাজা ঘোষণার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী এদিন প্রেমিক উদয়ন দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ঘোষণা করলেন বাঁকুড়ার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক সুরেশ বিশ্বকর্মা। এদিন সাজা ঘোষণার পর তাকে আদালতের বাইরে আনা হলে সে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলে, “আমার কোনও অনুশোচনা নেই। এবার প্রয়োজনে আমরা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে যাব।”
বুধবার আদালতের তরফে সাজা ঘোষণার পর সরকারি আইনজীবী এ চ্যাটার্জি বলেন, ‘”আমরা মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছিলাম। আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে। আমরা আদালতের এই সিদ্ধান্তে খুশি। হত্যার দায়ে তাকে যাবজ্জীবন ও ২০,০০০ টাকা জরিমানা এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য আরও ২ বছর কারাদণ্ড এবং ২০০০ টাকা জরিমানা করেছে আদালত।” এবিষয়ে উদয়নের আইনজীবী অভিষেক বিশ্বাস বলেন, “অপহরণের দায়ে প্রাথমিক মামলা দায়ের করা হয়। পরে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে খুন ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু এখনও অপহরণের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি বিপক্ষ আইনজীবী।”
২০১৬ সালে বাঁকুড়ার বাসিন্দা প্রেমিকা আকাঙ্খা শর্মার সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হয়েছিল মধ্যপ্রদেশের ভোপালের বাদিন্দা উদয়ন দাসের। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হয়েছিল। এর কিছুদিন পরেই প্রেমের টানে মধ্যপ্রদেশে চলে যায় আকাঙ্খা। এরপর দুজনে একসাথে থাকতে শুরু করে। এরপর ২০১৬ সালের ২৭ শে ডিসেম্বর রাতে দুজনের মধ্যে বচসার পর আকাঙ্খাকে গলা টিপে খুন করে উদয়ন। এরপর একটি টিনের বাক্সে তাঁর দেহ পুরে সেটি শোয়ার ঘরে রেখে দেয়। এরপর রাতারাতি সেই টিনের বাক্সের ওপর কংক্রিটের গাঁথনি তুলে দিয়ে সমাধি বানিয়ে মার্বেল দিয়ে ঢেকে দেয়। ২০১৬ সালে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা দেশে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়৷
এদিকে মেয়েকে হন্যে হয়ে খোঁজার পর শেষমেশ আকাঙ্খার পরিবারের তরফে পুলিশের দ্বারস্থ হন। কিন্তু কোনওভাবেই তার সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়না। শেষমেশ বেশ কয়েক দিন পর মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে বাঁকুড়া পুলিশ পৌঁছে যায় ভোপালের গোবিন্দপুরা থানার সাকেতনগরে উদয়নের বাড়িতে। তবে সেখানে গিয়ে কারও দেখা পাওয়া যায়নি। এরপর ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি আকাঙ্খার পরিবারের তরফে উদয়নের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করে আকাঙ্খার পরিবার। এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ র ১লা ফেব্রুয়ারি ভোপালে গিয়ে উদয়নকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর পরের দিন, ২ ফেব্রুয়ারি আকাঙ্খার দেহাবশেষ উদ্ধার হয়। তবে শুধুমাত্র আকাঙ্খার খুনের ঘটনাই নয়, পারিবারিক অশান্তির কারণে এর আগে বাবা বীরেন্দ্রকুমার দাস ও মা ইন্দ্রাণী দাসকে খুন করে ছত্তিশগড়ের রায়পুরের বাড়ির বাগানে পুঁতে দিয়েছিল উদয়ন। এরপর বাড়িটি বিক্রি করে দেয় সে৷ আকাঙ্খাকে খুনের ঘটনায় পুলিশি জেরায় মুখে সে কথা নিজেই স্বীকার করে যে। এরপর উদয়নের বয়ানের ভিত্তিতে ২০১৭–র ৫ ফেব্রুয়ারি তাদের ছত্তিশগড়ের রায়পুরের বাড়ির বাগান থেকে উদয়নের বাবা–মায়ের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…