নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রতিবেশী দেওরের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এই আভিযোগ তুলে পিটিয়ে মারা হল এক মহিলাকে। বেধড়ক মারের জেরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন অভিযুক্ত দেওর। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লকের অন্তর্গত আনন্দপুর থানার গ্রামে। ঘটনার নৃশংসতায় এখনও আতঙ্কিত নিহত মহিলার পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতে গোটা ঘটনাটাই ঘটে মহিলার পরিবারের সামনেই।
পুলিশ জানিয়েছে মৃত মহিলার নাম মালতী মুর্মু। ৫২ বছর বয়সী মালতীর স্বামী প্রয়াত হয়েছেন বছর দুই আগে। দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে মালতীর এবং প্রত্যকেরই বিয়ে হয়ে গেছে। মালতী ছেলেদের কাছেই থাকত। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইরত সনাতন য়ের সঙ্গে মালতীর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এমনই দাবি ছিল গ্রামের কিছু মানুষের এবং তারা এর আগেও মালতী ও সনাতনকে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বলেছিল স্থানীয় সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।
যদিও ঘটনার সময় ওই দুজনকে কোনও রকম আপত্তিজনক বা অসংলগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়নি। মালতীর পরিবারের আভিযোগ, রাত ১১ টার সময় দুজনে বসে হাঁড়িয়া খাচ্ছিল ও গল্প করছিল। বাড়ির অন্য সদস্যরাও জেগেছিল সেই সময় জনা ছ’য়েক যুবক লাঠি বাঁশ নিয়ে হাজির হয় এবং কোনও কিছু কথাবার্তা ছাড়াই মারধর শুরু করে। মালতীর পুত্রবধূ দেবিকা জানায়, ” আমার শাশুড়ি ও প্রতিবেশি সনাতন হাঁসদা বাড়ির উঠোনে বসেছিল। অনেকের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আমরা বাইরে বেরিয়ে আসি। আমি এবং আমার স্বামী বাবলু ওই লোকগুলোকে আটকাতে যাই কিন্তু কয়েকজন এসে আমাদের আটকায় ও ঘিরে রাখে। হুমকি দিয়ে বলে, আমরা যদি বাঁচাতে যাই তবে আমাদেরকেও পিটিয়ে মারা হবে। এরপর আমরা এগুতে সাহস পায়নি। ছ-সাতজন মিলে নির্বিচারে দুজনকে মারতে থাকে। মাথা মুখ সহ শরীরের কোনও অংশই বাদ পড়েনি মারের হাত থেকে। মারের চোটে মুখ কান মাথা ফেটে রক্ত বের হলেও রেহাই দেওয়া হয়নি তাঁদের। মারের চোটে একসময় দুজনেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। প্রায় রাত ১২টা অবধি চলে এই ঘটনা।”
মেদিনীপুর শহর থেকে প্রায় ২৭কিলোমিটার দুরে অবস্থিত জঙ্গলঘেরা উপরঘুচি গ্রাম। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাস করে ২২টি আদিবাসী পরিবার। আনন্দপুর থানা থেকে ১৫কিলোমিটার দুরত্বে নির্জনে অবস্থিত এই গ্রামটিতে খবর পেয়ে যখন অনেক রাতে পুলিশ এসে পৌঁছায় তখন মারা গেছে মালতী, সনাতনকে উদ্ধার করে পাঠানো হয় লাগোয়া শালবনী থানার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসাধীন সে।
বছর ৫২র সনাতনের ছেলে মেয়েরাও বিবাহিত। দুই পরিবারের পক্ষেই প্রকারন্তরে স্বীকার করা হয়েছে যে দুজনের মধ্যে একটি সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে সাবধানও করা হয়েছিল দু’জনকে। এমনকি মাস ছয়েক আগেই দুজনকে ৫০০টাকা করে জরিমানাও করা হয় এবং বলে দেওয়া হয় যে মেলামেশা বন্ধ করতে হবে কিন্তু তবুও তা বজায় ছিল। যদিও তার ফলে পিটিয়ে মারতে হবে কেন এর ব্যাখ্যা নেই দুই পরিবারের কাছেই। পুলিশ ঘটনায় এখনও অবধি তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গোটা গ্রাম কার্যত পুরুষ শুন্য হয়ে গেছে পুলিশি তল্লাশির ভয়ে।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…