TRENDS

বকুনির জেরে ভাইয়ের আত্মহত্যার খবর পেয়েই ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দাদার! দুই সন্তান হারিয়ে নির্বাক বিধবা মা

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: পাতে ভাত পড়েছিল কিছু বেশি। কেন ভাত নষ্ট করলি? এই নিয়ে বকাবকি ভাইকে। তারপরই নিখোঁজ হয়ে ১৯ বছরের ভাই। ২দিন নিখোঁজ থাকার পর অভিমানী ভাইয়ের দেহ মেলে পুকুরে। তাঁর জন্যই আত্মহত্যা করেছে ভাই, মায়ের কাছে কী করে মুখ দেখাবো? নিজেকে অপরাধী মনে করে ট্রেনের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা দাদার! দুটি সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর বিধবা মা। মর্মান্তিক এমনই ঘটনা ঘটল উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল থানার শ্যামনগরে।

জানা গেছে সোমবার রাতে শ্যামনগরের গুরদহ লিচুতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে শিবম রায় (১৯) নামে এক কিশোরের দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় এক বিধবার ছোট সন্তান শিবম যে গত ২দিন ধরেই নিখোঁজ ছিল। এও জানা যায় যে ভাত নষ্ট করার জন্য তাঁর বড় দাদা বছর একুশের দীপাঞ্জয় তাকে বকাবকি করার পরই নিখোঁজ হয়ে যায় সে। ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার। সম্ভাব্য অনেক জায়গায় খোঁজ করার পরও সন্ধান মেলেনি শিবমের।

সোমবার স্থানীয় একটি পুকুরে তার দেহ ভাসতে দেখা যায়। রাতে সেই খবর শোনার পরই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় দীপাঞ্জয়। এরপরই খবর পাওয়া যায় শ্যামনগর ২৫ নম্বর রেলগেটের পাশেই মিলেছে দীপাঞ্জয় রায়ের মৃতদেহ। ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে দীপাঞ্জয়। দুদিন ধরে ছেলে নিখোঁজের উদ্বেগের পর সেই ছেলের মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ভেঙে পড়েছিলেন মা শম্পা রায়। তারপরই আসে বড় ছেলের দুঃসংবাদ। তারপর থেকেই শোকে কার্যত পাথর হয়ে গেছেন মা।

জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার মা শম্পা রায়ের সঙ্গে দুপুরে ভাত খেতে বসেছিল দুই ভাই দীপাঞ্জয় ও শিবম । সেই সময় শিবম ভাত নষ্ট করলে বড় দা দীপাঞ্জয় ভাইকে বকাবকি করায় ভাতের থালা রেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছিল শিবম। তারপর পরপর এই ঘটনা।  শোকার্ত পরিবারে এক আত্মীয়া জানান, “একেবারেই দরিদ্র পরিবার এঁরা। দিনমজুর বাবা দুই বছর আগে মারা যায়। তারপর থেকে শম্পা এবং বড় ভাই দীপাঞ্জয় খেটেখুটে সংসার চালাতো কোনও রকমে।

শুক্রবার ছোট ভাই খাবার নষ্ট করায় সেসব কথা তুলেই দাদা বকাবকি করে । তারপর ছোট ভাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়, পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই শুনে দাদাও ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। ওরা দুই ভাই চলে গেল, বাবাও নেই। কেউ মায়ের জীবনের কথা ভাবল না। ছোট ভাইকে দীপাঞ্জয় বকাবকি করেছিল, সেই জন্য ও নিজেকে ক্ষমা করতে পারে নি।” এলাকা জুুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এই মর্মান্তিক ঘটনায়। পুলিশ ময়নাতদন্তের পর দুটি দেহ তুলে দেয় মায়ের হাতেই।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join