নরেশ জানা : এ প্রতিবেদন লেখার সময় দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিশ্চিত ভাবেই ৩ লক্ষ ছুঁয়ে গেছে কারন ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের শেষ তম তথ্য যা শুক্রবার সকালে মিলেছিল তাতে বলা হয়েছে ২লক্ষ ৯৭ হাজারের অঙ্ক স্পর্শ করেছে দেশ। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে আক্রান্ত ১০হাজার ৯৬৫ অর্থাৎ প্রতি ৩ ঘন্টায় প্রায় ৩৬০০। সুতরাং তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে আশ্চর্যের কী? লন্ডন হতে না পারি আমরা কিন্তু ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেশ এখন করোনা বিশ্বের চতুর্থ স্থানে, মাত্র ১৮দিন আগে ইতালি আর স্পেনকে ফেলে পঞ্চম স্থানে ছিল ভারত আর আজ ১৮দিনের মাথায় আমাদের সামনে রাশিয়া, ব্রাজিল আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
যদিও সংক্রমন নিয়ন্ত্রনে এনে রাশিয়ায় এখন আক্রান্ত ৪লক্ষ ৯৩ হাজার। দু’দেশের সংক্রমন হারের তুল্যমূল্য বিচার করলে আগামী ১ সপ্তাহে রাশিয়াকেও পেছনে ভারত করোনায় তৃতীয় শক্তিশালী দেশে পরিনত হবে।আর বিশ্বের মধ্যে কম আক্রান্তের গর্ব নিয়ে আমরা ধীরে দৌড় শুরু করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি বাংলার অবস্থাটাও ঠিক তেমনই। করোনায় এখন আর ‘ চক্রান্ত’ করে বাংলাকে বড় করে আক্রান্ত দেখাতে হচ্ছেনা, বাংলা এখন আক্রান্তের নিরিখে দেশে ক্রমশ ওপরের দিকে। গত ২৪ঘন্টায় ৩৯৬ জন কোভিড আক্রান্তের মৃত্যু দেখেছে আর সেই মৃত্যুকে ধরে ৮,৪৯৮ মৃত্যুকে ছুঁয়েছি আমরা।
দেশের মারাত্মক খারাপ মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু আর দিল্লির। বৃহস্পতিবার ১৫২টি কোভিড ১৯ য়ের বলি দেখেছে। যা কিনা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। ১লক্ষ
ছুঁয়েছে সেখানকার আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ঘন্টায় নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৬০৭ জন। শুধুমাত্র মুম্বাইতেই একদিনে আক্রান্ত ১৫০০।
বৃহস্পতিবার দিনে ১৮৭৫টি আক্রান্ত নমুনা নিয়ে ৩৮,৭১৬ তে দাঁড়িয়েছে তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্রের ঠিক পেছনেই। তারপরই দিল্লি যেখানে নতুন আক্রান্ত ১,৮৭৭ আর মোট আক্রান্ত ৩৪,৬৮৭। এই দুই রাজ্যে আক্রান্তের ঢেউ যেন আছড়ে পড়ছে যদিও আইসিএমআর বলছে এখনও দেশে গোষ্টি সংক্রমন ঘটেনি। আইসিএমআরের মহানির্দেশক ডক্টর বলরাম ভার্গব বলছেন, “আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা, চিহ্নিত করন, কোয়ারেন্টাইন ইত্যাদি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রতিনিয়ত নজরদারির মধ্যে রয়েছি। যা এখুনি প্রত্যাহার করা হচ্ছেনা।”
গত ২৪ঘন্টায় ৪৪০জন আক্রান্ত নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত অবধি ৯৭৬৮ আক্রান্ত বাংলায়। সংখ্যাটা হয়ত স্বস্তির অন্য অনেকগুলি রাজ্যের তুলনায় কিন্তু মৃত্যুর নিরিখে দেখলে শিয়রে সংক্রান্তি আমাদের কারন দেশের করোনা মৃত্যুর উপত্যকায় চতুর্থ চিতা সাজানো এখানেই। বৃহস্পতিবারের হিসাব অনুযায়ী মহারাষ্ট্রে মৃত্যু হয়েছে ৩,৪৩৮। গুজরাট তার পেছনেই ১,৩৪৭। দিল্লি ৯৮৪ আর বাংলায় ৪৩২ জন মারা গেছেন। পরেই রয়েছে মধ্যপ্রদেশ যেখানে মারা গেছেন ৪২৭জন। লক্ষ্য করার মতই যে মৃত্যুর হিসাব আসতেই চরম আক্রান্ত দেশগুলির থেকেও কেমন এগিয়ে গেল বাংলা? আক্রান্তের শীর্ষে থাকা মহারাষ্ট্রের পেছনেই ছিল তামিলনাড়ু কিন্তু সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা (৩৭২)কম হওয়ায় সে বাংলার পেছনে। হিসাব বলছে পশ্চিমবঙ্গ সহ আগের উল্লেখিত ৫টি রাজ্যই দেশের ৮২% মৃত্যু দখল করে বসে আছে।
আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হারের তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে চূড়ান্ত আক্রান্ত ও অধিক মৃত্যুর রাজ্য মহারাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গুজরাট যেখানে মৃত্যুর হার ৬.৩%। আর তার ঠিক পরেই ৪.৬% নিয়ে বাংলা। অর্থাৎ এই দুটি রাজ্যে আক্রান্ত কম কিন্তু মৃত্যু বেশি। অথচ সারা দেশে মৃত্যুর হার ২.৮%।
আর একটি পরিসংখ্যান দিয়ে এ প্রতিবেদন শেষ করা যেতে পারে। পরিসংখ্যানটিও বৃহস্পতিবার সকালের। যেখানে সক্রিয় কোভিড রুগীর হিসাব বলছে সারা দেশে ১লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৪৮। মহারাষ্ট্র ৪৬,০৮৬ দিল্লি ১৯,৫৮১ তামিলনাড়ু ১৭,১৮২ গুজরাট ৫, ৪৩৯ আর পঞ্চম স্থানে পশ্চিমবঙ্গ ৫,১১৭।
সব মিলিয়ে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে যে ভারত যেমন বিশ্বের শীর্ষ স্থান দখল করতে চলেছে ঠিক তেমনই পশ্চিমবঙ্গ চলেছে দেশের মধ্যে শীর্ষ স্থানে পৌঁছাতে। কেউ ভাবতেই পারেন আমেরিকার মত ২১ লক্ষের আক্রান্তর দেশ কিংবা মহারাষ্ট্রের মত ১লাখি আক্রান্তের রাজ্যকে ভারত কিংবা বাংলা কোনও দিনই ছুঁতে পারবেনা। তাঁদের বলি পরিসংখ্যান বলছে সব হিসাবই গুবলেট করে দেবে।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…