TRENDS

ভারত-চিন সংঘর্ষের জের, ভারতের বাজারে বাড়ছে ওষুধের দাম

Chandramani Saha

ওয়েব ডেস্ক :  ভারত চিন সম্পর্কের অবনতিতে সরাসরি প্রভাব পড়ছে ওষুধের বাজারে। ভারত সরকারের পক্ষে এখনও সরকারি ভাবে চিনা পণ্য বয়কটের কথা বলা না হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই হুজুগ উঠেছে ভারতের বাজারে।   ১৫ জুলাই গালওয়ান উপত্যকায় ভারিত-চিন সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ২০ জন ভারতীয় জওয়ানের। তারপর থেকেই ফুঁসছে দেশ৷ এর জেরে ১৬ জুন থেকে দেশ জুড়ে চিনা পণ্য বয়কটের দাবি উঠেছে৷ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পোড়ানো হচ্ছে চিনের প্রেসিডেন্টের কুশপুতুল, জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে চিনা ফোন, কম্পিউটার। কিন্তু এর জেরে বিপাকে পড়েছেন দেশের ওষুধ শিল্প। এর জেরে জেরে ক্রমশ বাড়ছে ওষুধ তৈরির উপাদানের দাম। ভারতে ওষুধ তৈরিতে যে সমস্ত কাঁচামাল প্রয়োজন তার ৮০% আসে চিন থেকে। উত্তরাখণ্ডের ওষুধ উৎপাদন সংস্থাগুলি জানিয়েছেন, গত চার দিনে এই দাম বেড়েছে ৩০%।

জান গিয়েছে, ভারতে ওষুধের উপাদান সরবরাহকারী প্রধান ১০-১২টি সংস্থা রয়েছে। যারা চিন থেকে কাঁচামাল আমদানি করে সেগুলি সরবরাহ করে। কিন্তু ১৫ ই জুনের পর দেশ জুড়ে চিনা পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়ার পর থেকেই এই সংস্থাগুলি চড়া দামে কাঁচামাল রপ্তানি করছে৷ এমনকি বেশী মুনাফা লাভের আশায় মাল মজুত রেখে কালোবাজারি করার প্রবণতাও দেখা দিচ্ছে সরবরাহকারীদের মধ্যে। তারওপর উপাদান সরবরাহের উপরে এই সংস্থাগুলির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, ফলে তাদের এড়িয়ে সরাসরি উপাদান সংগ্রহ একেবারেই সম্ভব নয়৷

এবিষয়ে উত্তরাখন্ডের হরিদ্বার ও রুদ্রপুরে রাজ্য শিল্প উন্নয়ন নিগমের এক ওষুধ উৎপাদক সংস্থার কর্ণধার জানিয়েছেন, “গালওয়ান উপত্যকার ঘটনার পরে চিনকে বয়কটের ডাক উঠেছে, যার জেরে চিন থেকে ওষুধের উপাদান সরবরাহকারী সংস্থাগুলি রাতারাতি ৩০% দাম চড়িয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির দোহাই দিলেও তারা অনৈতিক উপায়ে মুনাফা লোটার উদ্দেশেই এই প্রচার করছে।”

জানা গিয়েছে, ভারতে যা ওষুধ তৈরি হয় তার ৮০% কাঁচামাল আসে চিন থেকে। এমনকি সাধারণ প্যারাসিটামল ওষুধ তৈরি করতে গেলেও চিনের উপাদানের উপরে নির্ভর করতে হয় ভারতকে। এই কাঁচামাল যদি চিনকে বাদ দিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে তা সংগ্রহ করা হয় তবে তা দ্বিগুন দামে কিনতে হবে। ফলে উৎপাদন সংস্থাগুলি অসহায়তার সুযোগ নিয়ে নিজেদের মুনাফার জন্য ক্রমশ দাম বাড়িয়েই চলেছে। এর জেরে এবার থেকে ভারতের বাজারে ওষুধের দাম কয়েকগুন বাড়বে বলেই মনে করছে ওষুষ উৎপাদন সংস্থাগুলি।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join