নিউজ ডেস্ক: প্ল্যাকার্ডে লেখা, “আমরা পুনরায় মুখ্যমন্ত্রীর দুয়ারে”। আর ঐভাবেই রাস্তায় শুয়ে এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছে। বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি। আটক ৩০ জন বিক্ষোভকারী চাকরিপ্রার্থী। আর নির্বাচন প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অদূরে চাকরিপ্রার্থীদের এমনধারা বিক্ষোভে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
এর আগে মার্চ মাসের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছে বিক্ষোভ দেখান চাকরিপ্রার্থীরা। এদিন , মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির পাশে হরিশ চ্য়াটার্জি স্ট্রিটের রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। বিক্ষোভ চলাকালীন চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, দুবছর আগে প্রেস ক্লাবে অনশন চালাকালীন যে প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছিলেন তা মেটাতে হবে।
ঠিক দুবছর আগে প্রেস ক্লাবের সামনেও ঘটেছিল একই ঘটনা। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনশনে বসেন এসএসসি-র প্য়ানেলভুক্ত চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্যানেলে নাম থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ হচ্ছে না। নিয়োগের দাবীতে প্রায় একমাস ধরে অনশন করেন তাঁরা। সেই অনশন চলাকালীন তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। চাকরিপ্রার্থী এবং সরকারের ৫ সদস্যের কমিটি বৈঠকেও বসে।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবী, মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন সামনে লোকসভা নির্বাচন। তাই জুন মাস পর্যন্ত সময় চান তিনি। শুধু তাই নয়, ওই অনশন প্রত্যাহারের সময় চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, এটা অনশনের শেষ নয়, সাময়িক বিরতি। আমাদের দাবী না মিটলে ফের আন্দোলনে নামব।
মঙ্গলবার চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, তাদের দাবী মানা হয়নি। প্রেস ক্লাবে অনশন চলাকালীন অনেক প্রতিশ্রুতির কথা শোনানো হয়। কিন্তু তাঁর কোনওটাই কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের। তাঁদের দাবী, অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে দাবী চাকরিপ্রার্থীদের।
তবে চাকরি প্রার্থীদের বিক্ষোভ এই প্রথম নয়। এর আগে শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনেও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এসএসসি-র মেধাতালিকায় নাম থাকা চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। তারপর, সরস্বতী পুজোর দিন নিয়োগের দাবীতে শিক্ষামিত্র ও অনুমোদনহীন মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক আদিগঙ্গায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। যা একপ্রকার নজিরবিহীন। আসলে দীর্ঘ দিন ধরে অনুনয়-বিননয় করেও কোনও সুরাহা না মেলায় অবশেষে এই পথ বেছে নিয়েছিলেন শিক্ষকেরা।
কয়েকজন শিক্ষামিত্র এবং বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক সেদিন সকালে আচমকাই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ীর পিছনের দিকে আদিগঙ্গায় নেমে পড়েন। মহিলা শিক্ষামিত্র দাবী করেন, দীর্ঘদিন তাঁদের বকেয়া ভাতা দেওয়া হয়নি। বাড়ানো হয়নি ভাতা। অপরদিকে এক বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক জানান, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন যে সংখ্যালঘুদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারে রাজ্যের ১০,০০০ মাদ্রাসাকে অনুমোদন দেওয়া হবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খুব কম সংখ্যক মাদ্রাসা অনুমোদন পেয়েছে। তা নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে সরব হয়েছেন অনুমোদনহীন মাদ্রাসার শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরা। অনশনও হয়েছে। তবে প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মেলেনি।
এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করা হলেও কোনওবারই সেই অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তাই বাধ্য হয়ে এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবী করেছেন ওই শিক্ষক। সঙ্গে তিনি বলেন, ‘হয় মরব, নাহলে দিদির (মমতা) সঙ্গে কথা বলব।’
এদিকে ভিভিআইপি জোনে পাঁচজন শিক্ষক-শিক্ষিকার এমন মেজাজ দেখে কার্যত হতবাক হয়ে যান পুলিশকর্মীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ কমিশনার। পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা জল থেকে তোলেন পাঁচ শিক্ষক-শিক্ষিকাকে।
রাজ্যে চাকরি নেই শিক্ষক নিয়োগ স্তব্ধ বলে বারবার রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করতে দেখা গিয়েছে বিরোধী দলগুলোকে। তারা বারবার সেই নিয়ে কটাক্ষও করেছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সেই দাবী খন্ডন করার প্রচেষ্টায় নানান তত্ত্ব খাঁড়া করেছেন বারবার। তবে এদিন এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ আরও একবার বিরোধীদের করা কটাক্ষ যে সম্পূর্ণ মিথ্যে নয়, সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…