পুজোর ৪ দিন সৎকার হয়নি, হাসপাতালে হাসপাতালে পড়ে রয়েছে করোনা রোগীর লাশ, ক্ষোভে ফুটছে খড়গপুর পরিবার

নিজস্ব সংবাদদাতা: পুজোর আনন্দে মেতেছিল গোটা জেলা তাই কারও নজরে পড়েনি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সেইসব পরিবারের কান্না যাঁদের প্রিয়জন মারা গেছেন করোনা আক্রান্ত হয়ে এই উৎসবেই। একে তো প্রিয়জন হারানোর বেদনা আর তার সঙ্গে রয়েছে উদ্বেগ কারন সৎকার হয়নি মৃতদেহ গুলির। খড়গপুর, ঘাটাল, শালবনিতে একই চিত্র। প্রিয়জনের দেহ সৎকার করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কাকুতি মিনতিই সার। দেখছি আর দেখব করে গত চারদিন ধরেই লাশ ঘরে পচেই চলেছে।

এখনও অবধি জানা গেছে শালবনি কোভিড হাসপাতালে পড়ে রয়েছে ৮টি মৃতদেহ, খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে ১টি দেহ। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঠিক ক’টি লাশ রয়েছে বা আদৌ রয়েছে কিনা তা অবশ্য জানা যায়নি। খড়গপুর শহরের চিত্তরঞ্জন নগরে গত ষষ্টির রাতে মৃত্যু হয়েছিল এক আশি বছরের বৃদ্ধের। আইআইটি খড়গপুরের সেই প্রাক্তন কর্মী তার আগের কিছুদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। ১৭ তারিখ করোনা নিশ্চিত হয় বৃদ্ধের।

বৃদ্ধের ছেলে বলে, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের অপশন দেওয়া হয়েছিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অথবা বাড়িতে রাখার। আমরা বাড়িতেই রেখেছিলাম। ২২তারিখ বাবার অবস্থা খারাপ হতেই আমরা বিকালে হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালে তেমন কিছুই উন্নতি হয়নি। আমরা রাতেই বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি। অক্সিজেন যুক্ত আ্যম্বুলেন্সে বাবাকে বাড়ি এনেছিলাম।বাড়িতে অক্সিজেন খুলে বাবাকে আ্যম্বুলেন্স থেকে নামানো হয়। কিছুক্ষন পরেই বাবা মারা যান।”

ওই বৃদ্ধের ছেলে আরও জানান, “এরপরই আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রশাসন আমাদের দেহ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। দেহ পরের দিন সকালেই হাসপাতালের মর্গে ঢোকানো হয়। তারপর থেকে দেহ ওখানেই রয়েছে। আজ অবধি সৎকার করা হয়নি। প্রথম দিন বলেছিল কাগজপত্র তৈরি হয়নি আর এখন কোনোও কথাই বলছেনা। বলছে পোড়ানো হলে জানানো হবে। এদিকে আমরা কোনো পারলৌকিক কাজই করতে পারছিনা কারন নিয়ম অনুসারে দেহের অস্তিত্ব থাকাকালীন পারলৌকিক কাজ করা যায়না।”

খড়গপুর হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে হাসপাতালের মর্গে কোভিড রোগীর মৃতদেহ রয়েছে বলে প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে প্রশাসনের কিছুই করার নেই। ঠিক একই ভাবে শালবনি করোনা হাসপাতালে অন্ততঃ ৮টি দেহ রয়েছে। ঘাটালের গোপমহল গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক চিত্তরঞ্জন কর্মকারের বাড়ির লোকেরাও একই সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। ওই শিক্ষক পুজোর মধ্যেই শালবনি করোনা হাসপাতালে মারা যান।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই ধরনের দেহগুলি সাধারণত খড়গপুর খরিদায় মন্দিরতলার শ্মশানে পোড়ানো হয় এবং রাতের বেলায় পোড়ানো হয়। এই কাজটি করতে হয় পুলিশি তত্ত্বাবধানেই সৎকার করতে হয়। মন্দিরতলা সংলগ্ন একটি মন্দিরে পুজো হয়। তাছাড়া শহরের মধ্যে আইন শৃঙ্খলার দায়িত্ব পুলিশকে সামলাতে হয়েছে। পাশাপাশি যাঁরা এই দেহ বয়ে আনার কাজ করেন এবং সৎকার করেন তাঁরা গত সাত মাস ধরে প্রতিটি দিনই এই কাজ করে আসছেন উৎসবের মরশুমে তাঁদের কিছুটা অবকাশ প্রয়োজন ছিল। মঙ্গলবার রাতেই সমস্ত দেহই সৎকার করে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার সকালে খড়গপুর শহর বিজেপির মধ্য মন্ডলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ডেপুটেশন দেওয়া হয় খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপারের কাছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Share
Published by
Chandramani Saha
Tags: bodycorona

Recent Posts

Extra Marital Affair: পরকীয়ার ‘ভিডিও’ই কাল! দুই বউ থাকা সত্ত্বেও গোপন সম্পর্ক, পিংলায় গ্রেফতার!

অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…

৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার জাল নোট-‌সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র! চাঞ্চল্য মালদহে

লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-‌সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…

রাশিয়ায় স্পেশ‍্যাল অলিম্পিকসে ভারতের ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হলেন অভিনেতা সোনু সুদ!

বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…

Gangrape & Murder: বিয়ের নয় পড়াশুনা করতে চেয়েছিল কিশোরী! বদলা নিতে ধর্ষণ করে কীটনাশক খাইয়ে খুন

নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…

Boy save Train: সাত বছরের খুদে বাঁচিয়ে দিল দ ক্যানিং লোকাল!

বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…

Job: ইতিহাসে ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট! গোল্ড মেডেল শিকয়ে তুলে ডোম পদেই চাকরি চান স্বর্ণালী

নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…