ওয়েব ডেস্ক : স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ১০ বছর একাই প্রতিপালন করেছেন ছেলেকে।ছেলের দু’বছর বয়স থেকেই একাধারে বাবা ও মায়ের ভূমিকাই পালন করেছেন আসানসোলের হীরাপুর থানা এলাকার বাসিন্দা ভুপিন্দর সিং। ছেলের ১২ বছর বয়সে এসে সেই ছেলে যখন ক্লাশ ফাইভের ছাত্র তখন তাকে তিনি নিজেই গুলি করে কেন খুন করলেন এই নিয়ে তদন্তে নামল আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারটের হীরাপুর পুলিশ। লকডাউনের আবহে এই মর্মান্তিক ঘটনার ভেতরে কি রহস্য রয়েছে তা উন্মোচন করাই এখন পুলিশের একমাত্র লক্ষ।
জানা গিয়েছে, মৃত কিশোর স্মরণদ্বীপ সিং গুরুনানক বয়েজ হাইস্কুলের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র ছিল। বছর ৪৫ এর ভূপিন্দর সিং পেশায় জমি কেনাবেচার ব্যাবসা করতেন। কয়েকবছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে ছেলেকে নিয়েই থাকতেন বাড়িতে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার রাতে আচমকা গুলির শব্দ শোনেন এলাকার বাসিন্দারা। এরপর এদিন রাতেই তারা বাড়ির ভিতর থেকে স্মরণদ্বীপের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়। তড়িঘড়ি থানায় খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। এরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্মরণদ্বীপের বাবা পেশায় ব্যাবসায়ী ভূপিন্দর সিং কোহলানকে হীরাপুর থানার পুলিশ আটক করে।এরপর এদিন রাতেই পুলিশ তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করে একটি পিস্তল।
জেরায় ভূপিন্দর সিং জানায়, “রাত ন’টা নাগাদ ছেলে সিঙারা ও সুজির হালুয়া খাওয়ার কথা বলেছিল। সেইমতো আমি ছেলেকে তালাবন্ধ করে রেখে চিত্রা মোড়ে যাই। জিনিস কিনে আধঘণ্টা পর বাড়ি ফিরে দেখি ছেলে স্মরণদ্বীপ গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছে।” ভুপিন্দর আরো জানিয়েছে, অনেকসময় দেরি করে বাড়ি ফিরলে ছেলে অভিমানে লুকিয়ে পড়ত। এঘর ওঘর খুঁজে তাকে ধরে আনতেন তিনি। এভাবেই লুকোচুরি খেলা চলত বাপ ও ছেলের মধ্যে। সেরকমই দুস্টুমি ছেলে করছে ভেবেই তিনি এঘর ওঘর খুঁজতে খুঁজতে একটি ঘরের মেঝের মধ্যে ছেলেটির দেহ খুঁজে পান। তাকে তুলতে গিয়েই হাতে রক্ত লাগে আর সেটা দেখার পরই তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশিদের ডাকেন।
ভূপিন্দরের দেওয়া তথ্যে বেশ অসঙ্গতি দেখা দেয়। ভুপিন্দর জানিয়েছিল সে যখন বাজারে যায় তখন বাড়ির দরজা সে বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে তালা মেরে গেছিল।এসে তালা খুলেই সে ভেতরে ঢোকে। তাহলে প্রশ্ন হল আততায়ী ঢুকল কোনখান দিয়ে? দ্বিতীয়ত ভুপিন্দরের বক্তব্য হল আততায়ী পেছনের জানলা দিয়ে ঢুকেছিল যদি তাই হয় তবে প্রশ্ন উঠছে একটি ১২বছরের শিশুকে শুধু খুন করার জন্যই আততায়ী ঢুকবে কেন?বাড়ির কোনও জিনিসই যেখানে খোয়া যায়নি! আততায়ী জানবে কী করে যে ছেলেটি ঘরে এখন একাই রয়েছে? খুন করার পর আততায়ী অস্ত্র ফেলে যাবে কেন বিশেষ করে পিস্তলের মত অস্ত্র। যেখানে তাঁদের সঙ্গে কারুরই তেমন শত্রুতা ছিলনা সেখানে এই খুনের কারন কী? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেতে চাইছে।
পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া ওই পিস্তলই দিয়েই ভূপিন্দর তার ছেলেকে খুন করেছিল। নিশ্চিত হতে পুলিশের তরফে ওই পিস্তল সহ কার্তুজ ও খোল ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বাবা হয়ে নিজের ছেলেকে খুন করলেন ভূপিন্দর?খুনে ব্যবহৃত পিস্তলটিই বা তিনি কোথা থেকে পেলেন?এইসকল প্রশ্নেরই উত্তরের খুঁজছেন পুলিশ। পুলিশের একটি অংশের প্রাথমিক অনুমান ছেলে বাবার এমন কিছু বিষয় দেখেছিল বা বুঝে গিয়েছিল যাতে সামাজিক অথবা অন্য কোনও ভাবে সমস্যায় পড়ে গিয়েছিল বাবা। কী সেটা? সেটা কী কোনও অবৈধ লেনদেন নাকি অবৈধ সম্পর্ক? এমন কারও সাথে সম্পর্ক যা প্রকাশ পেলে ওই মহিলার সামাজিক অবস্থান টলে যেত? ঘটনাটি মদের ঘোরে, বাবা কি মদ্যপ ছিলেন? এমনই নানা প্রশ্ন এখন ঘুরছে পুলিশের মাথায় যার উত্তর পাওয়াটা জরুরি।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…