ওয়েব ডেস্ক : ২০১৮ সালে আইনজীবী রজত দে-র মর্মান্তিক হত্যার ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল গোটা রাজ্যে। অবশেষে প্রায় বছর দুয়েক পর বুধবার বারাসত আদালতে বিচারক সুজিতকুমার ঝা এই মামলায় রজত দের স্ত্রী অভিযুক্ত অনিন্দিতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করেন। সেই সাথে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৬ মাসের জেল ও ২ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে বারাসত আদালত। এদিন সাজা ঘোষণার পর বিচারক জানিয়েছেন, অনিন্দিতার বয়স কম, তাঁর বাচ্চাটিও ছোটো, ফলে সে কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যতে যাতে তাঁর ভুল শুধরে নিতে পারে সেকারণেই তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হল। রায় শুনে এদিনও এজলাসে ফের কান্নায় ভেঙে পড়ে অনিন্দিতা। সে বলে, “আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। শরীরের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত বিশ্বাস করব ফাঁসানো হয়েছে।” তবে এদিন বিচারকের রায় শোনার পর পালটা উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অনিন্দিতার আইনজীবী।
আইনজীবী রজত দের খুনের প্রায় দুবছর পর সোমবার বারাসত আদালতে এই মামলার শুনানির হয়। ওইদিন বারাসত আদালতের বিচারক সুজিত কুমার ঝা ওই তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অনিন্দিতাকে খুন এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। সোমবার শুনানির দিন বিচারক স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনা কিংবা আত্মহত্যা কোনোটাতেই খুন হননি রজতবাবু বরং তাকে খুন করা হয়েছিল।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী ২৫ নভেম্বর ২০১৮ রাতে মোবাইলের চার্জার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করা হয়েছিল রজতকে। তার আগে মারধরও করা হয়। এমনকি ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে রজতের মাথার দু’পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। এদিকে রজতকে খুনের পর আত্মহত্যা করেছে বলে গল্প ফাঁদার চেষ্টা করে। যদিও সে গল্প ধোপে টেকেনি। সরকারি আইনজীবীরা সমস্ত তথ্য প্রমাণ আদালতে পেশ করে দাবি করেন যে অনিন্দিতাই খুন করেছে রজতকে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৫ নভেম্বর নিউটনের ডিবি ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে আইনজীবী রজত দে-র দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে হাসপাতলে নিয়ে গেলে রাস্তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর হাসপাতালের তরফে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু প্রথমাবস্থায় তাঁর স্ত্রী অনিন্দিতাকে সন্দেহ করা না হলেও জেরায় একাধিকবার তার বয়ান বদলই প্রথমে দাবি করেছিলেন যে তাঁর স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। পরে তাঁর বয়ানে অনেক অসঙ্গতি দেখা যায়। এর থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ দানা বাঁধে৷ এরপর ময়না তদন্তের রিপোর্টে রজতের দেহেও একাধিক আঘাতের চিহ্ন মেলে। এরপরই পুলিশ সন্দেহ করে আত্মহত্যা না খুন করা হয়েছে রজতকে। এরপরই খুনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরেই ডিসেম্বর মাসে রজত দে-কে খুনের অপরাধে স্ত্রী অনিন্দিতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘ দুবছর পর অবশেষে বুধবার এই মামলায় অভিযুক্ত অনিন্দিতা পাল দে-র সাজা ঘোষণা করলেন বারাসত আদালত। তবে নিহত ছেলের মৃত্যুতে অভিযুক্তর মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিলেন রজতের বাবা। তবে বিচারকের রায়ে খুশি নিহতের বাবা।
অভিরুপ মাইতি, খড়গপুর: দু’টি বিয়ের পরেও ফের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, আর তারই জেরে শেষ পর্যন্ত…
লক্ষাধিক টাকার জাল নোট-সহ আটক সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। পুলিশ নাবালকের কাছ থেকে ৪ লক্ষ…
বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ করোনার সময়ে সাধারণ মানুষের ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। জুটেছিল বাস্তব জীবনের হিরোর…
নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল কিংবা টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে কিশোরীর দিকে চেয়ে থাকত লোলুপ দু'টো চোখ।…
বিশ্বজিৎ দাস:- ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেল ক্যানিং স্টাফ স্পেশাল ট্রেন। তাও মাত্র সাত…
নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউন কেড়ে নিয়েছে তাঁর এবং স্বামীর পেশা। একরত্তি মেয়ে কে নিয়ে সংসার ভাসছে…