TRENDS

করোনা সংক্রমনের ভয়ে হোটেল খুলতে দিতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দারা, দিঘা মন্দারমনির হোটেল ফের বন্ধ, আপাতত বিশ বাঁও জলে সৈকত পর্যটন

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: বুধবার  মিটিং করে বৃহস্পতিবার থেকে হোটেল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিঘা হোটেলিয়ার্স আ্যশোসিয়েনস। ঠিক হয়েছিল দিঘার বসতি এলাকা সংলগ্ন জনবহুল এলাকা বাদ দিয়ে মূল সড়কের ধারের হোটেলগুলি ৩০ শতাংশ খরিদ্দার নিয়ে খুলবে। সেই মত খুলতেও থাকে কিছু হোটেল কিন্তু স্থানীয় মানুষজনের প্রবল আপত্তিতে ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেল সেগুলোর। আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেল সৈকতের পর্যটনের। বাঙালির প্রিয় দিঘা আপাতত হাতের বাইরেই থেকে গেল।

স্থানীয়দের আপত্তি সামলে হোটেল খোলা সম্ভব না বলে শুক্রবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন দিঘা-শঙ্করপুর এবং মন্দারমণির হোটেল সংগঠকরা।
লকডাউন শিথিল হওয়ায় দিঘা মুখি হয়েছিলেন বেশকিছু পর্যটক। গনপরিবহন বাদ দিয়ে অনেকে নিজের গাড়ি এমনকি বাইকে আসতে শুরু করেছিলেন কিন্তু বাইরের লোকজন আসাকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয় এলাকাবাসীর মধ্যে। ক্ষোভ-বিক্ষোভে যার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে দফায় দফায়। এমনকি বাইক আরোহী পর্যটকদের ঘিরেও বিক্ষোভ চলে। এর ফলে পর্যটকদের যেমন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা অন্যদিকে চরম অস্থিরতা স্থানীয়দের মধ্যে । এই পরিস্থিতিতে আর কোনওভাবেই হোটেল, লজ খুলে রাখতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।

হোটেল লজ ইত্যাদির মালিকদের বক্তব্য স্থানীয় মানুষের বাধা প্রতিরোধের মুখে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়, কাম্যও নয়। তাই প্রশাসনকে তাঁরা জানিয়েছেন প্রশাসন এগিয়ে আসুক সমস্যা সমাধানে। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের প্রশাসক সুজন দত্ত বলেন, ‘সরকারি নির্দেশে সুরক্ষা বিধি মানার পরও স্থানীয় মানুষের বাধা দেওয়ার কারণ আমার কাছে ঠিক স্পষ্ট না। এ ব্যাপারে আমরা খুব শিগগিরই হোটেল সংগঠক এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

৮ জুন থেকে খোলার পর মন্দারমনিতে প্রথম বাধা আসে। মূল শহর থেকে বেশকিছুটা দূরে হওয়ায় ভাবা হয়েছিল দিঘার হোটেলগুলো খুললে মন্দারমনিও ধিরে ধিরে বুঝতে পারবে এবং অসুবিধা হবেনা। এরপরই দিঘার হোটেল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার থেকে ৩০ শতাংশ হোটেল খুলে গিয়েছিল দিঘা ও শঙ্করপুরে।পর্যটক সমাগমও শুরু হয়েছিল। স্বস্তির হাসি খানিকটা হলেও ফুটেছিল ব্যবসায়ী, কর্মচারীদের মুখে। কিন্তু তা ফের ম্লান, সৈকতবাসীর ঘোর আপত্তির কারণে।মন্দারমণির মতো বাধাপ্রাপ্ত দিঘার পর্যটনও। শুক্রবার নিউ দিঘার বিভিন্ন জায়গায় এবং কয়েকটি হোটেলের সামনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় আরাধনা নারী কল্যাণ সমিতির মহিলারা। পর্যটক আনাগোনায় করোনার গোষ্ঠী সংক্ৰমণ ঘটতে পারে, এই আশঙ্কায় পর্যটকদের ফিরে যেতে বলার পাশাপাশি হোটেল বন্ধ রাখার দাবিতে আওয়াজ তোলেন মহিলারা।
খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। সামাল দেয় পরিস্থিতি।

দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন,’ স্থানীয় মানুষের আপত্তির কারণে আমরা হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাধা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করুক প্রশাসন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা আর হোটেল খোলার কথা ভাবছি না।’ একই কথা মন্দারমণি বিচ হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দেবদুলাল দাসমহাপাত্রের মুখেও। তিনি বলেন,’ সরকার মানুষের রোজগারের উপায় বের করতে হোটেল খোলার নির্দেশ দিয়েছিল।মানুষই বাধা দিচ্ছেন। সমাধনের উপায় খুঁজুক প্রশাসন। ওদিকে দিঘা-শঙ্করপুর এবং মন্দারমণিতে হোটেল চালু হলেও ১৫ জুনের পর হোটেল চালুর কথা জানিয়েছিলেন আরেক সৈকত ভূমি তাজপুর। কিন্তু তাঁরাও আর নিশ্চিত হতে পারছেন না হাঁটতে দিঘা-মন্দারমণির ঘটনার পর। সব মিলিয়ে এ মরশুমে পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র পর্যটন খুলবে কিনা সেটাই এখন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে গেল।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join