TRENDS

২৪ ঘন্টায় ফের ৩ জন করোনায় আক্রান্ত ঝাড়গ্রামে, অরণ্য শহরে এবার আতঙ্কের ছায়া

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২৪ ঘন্টা কাটলনা রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবন প্রকাশিত করোনা বুলেটিনে উঠে আসা ঝাড়গ্রাম জেলার খোপে ৩ সংখ্যাটি লেখার,তারই মধ্যে উঠে এল আরও ৩ জন আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সোমবার এমনটাই জানা গেছে যে খোদ এবার ঝাড়গ্রাম পুরসভারই ৩ জন অস্থায়ী কর্মীর করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে সোমবার এই খবর পাওয়ার পর ওই তিনজনকেই রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের বড় মা কোভিড হাসপাতালে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে।

যদিও ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন বা স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে এই ঘটনা নিয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অবশ্য এর আগেও রাজ্যের স্বাস্থ্যভবনের তালিকায় উঠে আসা তিনজনের ব্যাপারেও জেলার তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নতুন করে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে এই তিনজনই ঝাড়গ্রাম পুরসভার অস্থায়ী কর্মী। এঁদের মধ্যে দুজন ঝাড়গ্রাম পুরসভা এলাকার বাসিন্দা ও একজন পার্শ্ববর্তী থানা জামবনী এলাকার বাসিন্দা যদিও পুরসভাতে কাজ করার পাশাপাশি একটি কারখানায় নাইট গার্ডের কাজ করত এবং সেই সূত্রে সেও ঝাড়গ্রাম শহরেই থাকত। এরা মূলত পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডগুলি এবং পুরসভাতেও মশার লার্ভা মারার জন্য কীটনাশক স্প্রে করার কাজ করত।

কেন এবং কি সূত্রে এঁদের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল তা এখনও জানা না গেলেও এটুকু জানা গেছে যে এই তিনজনেরই কোভিড পজিটিভ ফলাফল আসার পরই জেলা পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তর এঁদের তড়িঘড়ি বড়মা কোভিড হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই ঝাড়গ্রামের এক মুদি দোকানের কর্মচারী বিনপুরের বাসিন্দা কোভিড আক্রান্ত হয়ে বড়মা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন । তাঁরই সঙ্গে ভর্তি হয়েছেন গ্রামীন ঝাড়গ্রামের এক তরুন ও জামবনীর এক তিনবছরের শিশু। শিশুটি খড়গপুরের মামাবাড়ি ও তরুন পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে জেলায় প্রবেশ করেছিলেন। যদি এরা ঝাড়গ্রামের বাইরে করোনা আক্রান্ত হয়েও থাকেন তাহলেও ওই মুদি দোকানের কর্মচারি কিভাবে আক্রান্ত হলেন সেই প্রশ্ন থেকে যায়। যেমনটা সদ্য আক্রান্ত এই তিনজনের সংক্রমন কিভাবে হল বোঝা যাচ্ছেনা।

দিন তিনেক আগেই ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রামের বাসিন্দা ২ ভাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ওই একই হাসপাতালে ভর্তি। এঁরা কলকাতার রেস্টুরেন্টে কাজ করত। লকডাউন পরিস্থিতে বাড়ি ফিরছিলেন। পুলিশ এঁদের করোনা পরীক্ষা করালে পজিটিভ ধরা পড়ে। হয়ত এরা কলকাতা থেকেই পজিটিভ হয়ে এসেছিলেন। এর আগে এগরা থেকে আসা ঝাড়গ্রামের এক বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলায় আসেন।পরে তাকে বড়মা হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে
সুস্থ। রাজ্যের তালিকায় শেষোক্ত তিনজনকে রাখা হয়নি। সেখানে শুধুই মুদি দোকানের কর্মী, শিশু ও বাইরে থেকে আসা তরুনকে নিয়ে রবিবার জেলায় ৩ আক্রান্ত দেখানো হয়েছে।

সোমবারের তালিকাতেও সেই তিনজনই আছে কারন বুলেটিন তৈরির সময় হয়ত এই তিনজনের খবর যায়নি। তবুও জেলা হিসাবে ধরলে মোট আক্রান্ত ৯। একজন সুস্থ এবং ৮ জন সক্রিয়।
প্রথম দিকে ৬ সবুজ জেলার তালিকায় ঝাড়গ্রাম। স্বস্তি ও খুশির বাতাবরন ছিল জেলায়। এরপর একের পর এক এবং একই সঙ্গে একই দিনে একাধিক আক্রান্ত হওয়ার খবর ক্রমশ আতঙ্কের বাতাবরন তৈরি করছে। তার ওপর খোদ শহরের মধ্যেই আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার খবরে সেই আতঙ্ক আরও বাড়াচ্ছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join