TRENDS

ছাগল খেতে গৃহস্থের গোয়ালে অজগর! কেশিয়াড়ির গ্রামে তোলপাড়

Chandramani Saha
ছাগল খেতে গৃহস্থের গোয়ালে অজগর! কেশিয়াড়ির গ্রামে তোলপাড়
হিজলী রেসকিউ সেন্টারে

রাহুল পাল : অজগর! অজ অর্থ ছাগল। অজগর অর্থে ছাগল খাদক। সেই ছাগল খেতেই গৃহস্থের গোয়ালে হানা দিয়ে ধরা পড়ল এক অজগর শাবক। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ী থানার অন্তর্গত খাজরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চৈতন্যপুর গ্রামের গৃহস্থ মিহির বরন ঘোষের গোয়াল থেকে শনিবার সকালে এই অজগরটিকে স্নেক রেসকিউ টিমের সহায়তায় উদ্ধার করেন হিজলী রেঞ্জের বনকর্মীরা।

হিজলী বনাঞ্চলের সহকারি রেঞ্জার তথা স্থানীয় পোড়াপাড়া বিট অফিসার সুরজিৎ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, ” ৯ ফুট দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট প্রায় ১০কেজি ওজনের এই অজগরটির বয়স ২বছর মত। সাপটিকে আমরা উদ্ধার করার পর আমরা খড়গপুর ফরেস্ট ডিভিশনের হিজলী রেসকিউ সেন্টারে রেখেছি। অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে সাপটি। তবুও কয়েকদিন পর্যবেক্ষনে রাখার পর সাপটিকে নয়াগ্রাম থানা এলাকার তপোবনের গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।”

ছাগল খেতে গৃহস্থের গোয়ালে অজগর! কেশিয়াড়ির গ্রামে তোলপাড়
গোয়ালঘরে

চৈতন্যপুর গ্রামটি কেলেঘাই নদী সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। নদীর দুপাশে শালগাছের গভীর বনাঞ্চল। চৈতন্যপুর ছাড়াও বাঘবিন্দা এলাকার গভীর জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে খাবারের সন্ধানেই ঢুকে পড়েছিল অজগরটি। গোয়ালঘরের মাটির দেওয়াল ও কাঠের চৌকাঠের মধ্যবর্তী ফাঁকা অংশ দিয়েই সম্ভবত সাপটি ঢুকে পড়েছিল গৃহপালিত ছোটখাটো পশুর আশায় কিন্তু গোয়ালে ছাগল বা ছোট বাছুর না থাকায় সাপটি তেমন কোনও সুযোগ করে উঠতে পারেনি।

সাপের অস্তিত্ব টের পেয়ে গরুগুলির প্রচন্ড লাফ ঝাঁফের ফলে বেরিয়েও আসতে পারেনি সাপটি। কুন্ডলী পাকিয়ে এক জায়গায় থেকে যায়।
চিন্ময় ঘোষ নামে এক যুবক জানান, “আমার জেঠুর গোয়ালঘর ওটা। সকালে গোয়াল পরিষ্কার করতে গিয়ে গরুদের লাফানো দেখেই আমরা বুঝতে পারি কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। এরপরেই নজরে পড়ে ওই বিশালাকার সাপটি। এরপরই আমরা বিট অফিসার মজুমদার সাহেবকে ফোন করে খবর দেই।”

সুরজিৎ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন, ‘ খাবারের সন্ধানেই সাপটি জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়েছিল। ইদানিং জঙ্গলের বাইরে অজগরের অস্তিত্ব ভালমতই টের পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে কলাইকুন্ডা এয়ারবেস, খেলাড়, মোহনপুর এমনকি খড়গপুর শহরের মালঞ্চ থেকেও অজগর উদ্ধার করেছি আমরা। রাতভর গরুদের নড়াচড়াতে সাপটি যেমন এদিক ওদিক করতে পারেনি তেমনি সকালে দিনের আলো ফুটে যাওয়ায় বাইরে বেরুনোর চেষ্টা করেনি বলেই মনে হচ্ছে।” অজগর দেখতে দলে দলে লোক ভিড় জমায় গ্রামে। সেই ভিড় সরিয়ে অজগর উদ্ধার করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় বনকর্মীদের।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join