TRENDS

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ খড়গপুরেও, দুদিনে ৪ আক্রান্তের হদিস! পশ্চিম মেদিনীপুরে নতুন আক্রান্ত ১৯, রাজ্যে দৈনিক সংক্রমন দু’হাজার ছুঁই ছুঁই

Chandramani Saha

নিজস্ব সংবাদদাতা: শেষ অবধি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পৌঁছে গেল খড়গপুরেও। দীর্ঘদিন শূন্য থাকার পর ফের করোনার প্রকোপ বাড়ছে রেল শহরে। বৃহস্পতিবার ৩ জনের শরীরে করোনার জীবাণু মেলার পর শুক্রবার ফের নতুন একজন আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মধ্যবয়সী ওই মহিলার বাড়ি খরিদা লাগোয়া ভগবানপুরে বলে জানা গিয়েছে। খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী জানিয়েছেন, “শারীরিক কিছু উপসর্গ নিয়ে ওই মহিলা হাসপাতালে এসেছিলেন। কিছু লক্ষণ দেখে আমাদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হয়। তাতেই করোনা পজিটিভ মেলে তাঁর। আপাতত তাঁকে হোম আইসো লেশনে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।” এই নিয়ে গত ২দিনে চারজনের দেহে করোনার জীবাণু মিলেল। একটি অসমর্থিত সূত্র বলছে রেল এলাকাতেও করোনা মিলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফের সবাইকে মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।

এদিকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়েই ফের করোনার প্রকোপ মাথা চাড়া দিতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার জেলায় ৮ জন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল। শুক্রবার তা একলাফে ১৯শে পৌঁছে গেছে যার মধ্যে মেদিনীপুর শহরের কয়েকজন রয়েছে। জেলার স্বাস্থ্য কর্তাদের মতে কলকাতা মহানগরে করোনার প্রকোপ বাড়ার ফলে জেলা গুলিতেও আক্রান্তের হার বাড়ছে কারন চাকুরি ও ব্যবসায়িক সূত্রে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। ট্রেন চলাচল প্রায় স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ায় মানুষের যাতায়াতের পরিমান আরও বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রেনে বাসে গ্লোভস ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তারা। তাঁরা আরও বলেছেন যতদূর সম্ভব সাবধানতার সঙ্গে গন পরিবহন ব্যবহার করতে হবে। করোনা বিধি মেনে চলতে হবে।

এদিকে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭৩৩। যেখানে আগের দিন ছিল ১ হাজার ২৭৪। অর্থাৎ দৈনিক সংক্রমণের হার ৪.৯৪ শতাংশ থেকে বেড়ে একলাফে পৌঁছে গিয়েছে ৬.৪২ শতাংশে। কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনায় সংক্রমণ সর্বাধিক। দুই জেলায় যথাক্রমে ৫১৩ ও ৩৩১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে রাজ্যে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৬৯২।

জেলা গুলিতে করোনায় আক্রান্তের পরিমানও রীতিমত আশঙ্কা জনক। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনে দেখা গিয়েছে, আক্রান্তের নিরিখে প্রথম দুই স্থানে রয়েছে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার পরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সেখানে শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৭৩। হাওড়ায় এই একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ১৫৯ জন। বীরভুমের মত প্রান্তিক জেলাতেও শুক্রবার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ১৫৮ জন। পশ্চিম বর্ধমান জেলাতে নতুন করে ৯২ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। হুগলি জেলাতে শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮০ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

সংক্রমণ বৃদ্ধির ফলে রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৫ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯২২-এ। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৫ লক্ষ ৭১ হাজার ৮৯৫ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৪ জনের করোনায় মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩৩৫-এ। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে করোনা সংক্রমন রোধ করার জন্য দৈনিক টিকাকরণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। শেষ ২৪ ঘণ্টার রাজ্যে ১ লক্ষ ৮৯ হাজার ১০৩ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যা আগের দিনের তুলনায় ৫০ হাজারেরও বেশি। এখনো অবধি রাজ্যে ৫৪ লক্ষ ১৯ হাজার ২৬৯ জনকে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

Chandramani Saha

চন্দ্রমণি সাহা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং একজন প্রতিশ্রুতিবান সাংবাদিক। গতানুগতিক সংবাদের বাইরে গিয়ে মানবিক আবেদন সম্পন্ন গল্প এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরাই তার প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে তিনি The Khargapur Post-এর সম্পাদকীয় বিভাগে কর্মরত।

Home Breaking E - Paper Video Join